কিছু অকেজো গ্যাজেট যা আপনার জানা উচিত!
এই পৃথিবীতে অনেক কিছুই তৈরি হচ্ছে এখন।এত বেশি বেশি টেকনোলজি এবং আবিষ্কার কখনোই শেষ হবে না। আজকে আমি এমন আজব আজব গ্যাজেট নিয়ে কথা বলবো যা আপনি কখনো দেখেননি। এগুলোর মধ্যে কিছু কিছু আছে প্রয়োজনে আবার কিছু কিছু আছে অপ্রয়োজনীয়।
এমন আপনি কখনো কোন আইসক্রিম খেয়েছেন হয়তো খেয়েছেন অবশ্যই খেয়েছেন। কোন আইসক্রিম এর আইসক্রিম চেটে চেটে খেতে হয়। কিন্তু কিছুক্ষণ পর এটি গলে যায়। এজন্য টেকনোলজি এমন একটা কোন আইসক্রিম তৈরি করেছে যা রৌদ্রের নিচে বা অনেকক্ষণ কাছে রাখলেও গলে যাবে না যা আছে তেমনই থাকবে।আমার মনে হয় না যে এই গেজেটটির মাধ্যমে কেউ তেমন কোনো উপকার পেতে পারে।
আমাদের ফোনে কত কত প্রাইভেসি আছে।এখন এরমধ্যে স্ক্রিন প্রাইভেসি স্কার্ফ এসে পড়েছে। এটি হচ্ছে এমন এক ধরনের স্কার্ফ যা আপনি মাথায় পড়ে আপনার ল্যাপটপ বা মোবাইলের সাথে লাগালে আপনার আশেপাশের কেউ দেখতে পারবেন না যে আপনি কি দেখছেন বা করছেন মোবাইল ফোনে। এটা হয়তো ফোকাস করার জন্য অনেকের কাছে একটি ভালো মাধ্যম। এতে একটাই সমস্যা আছে যে আপনাকে লোক দেখতে পারবে না সাথে সাথে আপনিও তাদেরকে দেখতে পারবেন না। আপনার আশেপাশে কে আছে, কে কখন আসছে বা যাচ্ছে কাউকেই দেখতে পারবেন না।
মনে করেন আপনি রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন তখন আপনি এই স্ক্রিন প্রাইভেসি স্কার্ফ ব্যবহার করছেন তখন যদি আপনার রোড এক্সিডেন্ট বা কার এক্সিডেন্ট হয় তখন আপনি কি করবেন।তাই আমার মনে হয় না এই স্কার্ফের মাধ্যমে কেউ কোনো জিনিসের উপর ফোকাস করে কোনো লাভ হবে।
এখনকার ইলেকট্রিক গাড়িতে অনেক অনেক ফিচার রয়েছে যা আমাদের জন্য উপকারী। কিন্তু আমার মনে হয় কিছু কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস এখনো বাদ পড়েছে, আর কিছু কিছু অপ্রয়োজনীয় জিনিস শুধু শুধু দিয়ে রেখেছে। এই গ্যাজেটের নাম হচ্ছে কার ডেস্ক। এই ডেস্কটি থাকে গাড়ির হ্যান্ডেলিং একটু নিচে এটি খুলে আপনি সেখানে ল্যাপটপ বা খাবার রেখে খেতে পারেন। মনে করে আপনার কোন অফিসের কাজ আছে সেখানে বসে আপনি করতে পারবে কিন্তু আপনার ওই সময় গাড়ি থামিয়ে নিতে হবে। কারণ আপনি যদি গাড়ি চালানো অবস্থায় কাজ করেন তাহলে আপনি গাড়ির হ্যান্ডেলিং ঘুরাতে পারবেন না।ফলে আপনার কার এক্সিডেন্ট হবে।তাই আমি বলব এই ফিচারটি একেবারে বন্ধ করে দেওয়া দরকার।
মনে মনে করেন আপনি টয়লেটে বসে আপনার প্রয়োজনীয় কাজ করছেন তখন টয়লেট পেপার শেষ হয়ে গেল।এজন্য টেকনোলজি এমন একটা এরকম রোবটও তৈরি করে দিয়েছে যে টিস্যু শেষ হয়ে গেলে আবার টিস্যু নিয়ে চলে আসবে।এর নাম হচ্ছে চার্মিং রোলবোট।মনে করেন আপনার দরজা বন্ধ হয়ে গেছে আপনি আর খুলতে পারছেন না তখন কি করবেন আপনি?এই সমস্যা থেকে দূর হওয়ার জন্য টেকনোলজি একটা দরজা ভাঙ্গার জন্য রোবটও তৈরি করে দিয়েছে। আমার কথা হচ্ছে না যে আমাদের যেসব গেজেট প্রয়োজন সেগুলো কিনতে পারছি না ঠিকমতো এসব অপ্রয়োজনীয় গেজেট এখন আমাদের কিনতে হবে।
মনে করুন আপনি মোটা হয়ে গেছে অফ করে এজন্য আপনি কি করতে পারেন ডায়েট করতে হবে আবার হাঁটাহাঁটি, দৌড়াদৌড়ি, খেলাধুলা করতে হবে। কিন্তু টেকনোলজি এই কষ্ট থেকে আমাদের দূর করে দিয়েছে। তারা এমন একটা গেজেট তৈরি করেছে যার সাহায্যে আমাদের সহজেই ওজন কমে যাবে। সেই গেজেটটি হচ্ছে একটি হেডফোন। এই হেডফোন পড়ে আপনার কয়েক দিনের মধ্যে ওজন কমে যাবে।এটি আমাদের মস্তিষ্কের মধ্যে একটি বৈদ্যুতিক সিগন্যাল পাঠায়।এরপরই আমাদের মস্তিষ্ক থেকে এই সিগনাল আমাদের শরীরের মধ্যে যায়। এটি আমাদের জন্যে হয়তো নিরাপদ নয়। কারণ আমাদের মস্তিষ্কের মধ্যে বৈদ্যুতিক সিগন্যাল পাঠাচ্ছে। এর ফলে আমাদের ক্ষতি হতে পারে।
ইঁদুর এবং মশা তাড়ানোর গেজেট তৈরি করেছিল। এই গ্যাজেটে গানও বাজে। আমি এটি ব্যবহার করে দেখেছি যে ইঁদুর আর মশা তো যাই না আরো অসহ্য লাগে।
আপনারা দেখেছেন অনেক অনেক ডিসপ্লে আছে এ পৃথিবীতে। এরকমও ডিসপ্লে তৈরি করা হয়েছে যা কালির উপর কাজ করে। আপনাদের মধ্যে অনেকেই অ্যামাজনের কিন্ডেল দেখেছেন।ওইটা দেখতে পুরাই পেপারের মতো। আমি এই গ্যাজেটে নিয়ে কথা বলছিলাম সেটা হচ্ছে রঙিং ই-কালি ডিসপ্লে। এইটি পুরোই পেপারের মতো। এটি ব্যবহার করে আপনি যদি রাতে অন্ধকারে বা রোদ্রের মধ্যে ব্যবহার করেন তাহলে পুরো পরিষ্কার দেখা যাবে।আর এটা আপনার চোখের কোন ক্ষতি করবে না।ছোট ছোট ডিসপ্লের মোবাইলের জন্য তো ঠিক আছে। কিন্তু এই স্মার্টফোনের জন্য এটা সুবিধাজনক নয়।
আমাদের পরের জিগেস একটি রয়েছে সেটি হচ্ছে একটি রিং। এর নাম হচ্ছে জেসচার রিং। আপনি যদি একটি হাতে মোবাইল নিয়ে আরেক হাতে রিং পরে মোবাইলের স্ক্রিনে স্পর্শ না করে আঙ্গুলের মাধ্যমে কোনো কিছু লেখেন সেটা আপনার মোবাইলের স্ক্রিনে এসে পড়বে।স্পর্শ না করে কোনো ড্রইং করলেন সেটা আপনার মোবাইলের স্ক্রিনে এসে পড়বে।
পায়ে পড়ার জুতার জন্য এখন একটি গেজেট আবিষ্কার হয়েছে।এ জুতার নাম হচ্ছে এসি জুতা। এটি এমন এক ধরনের জুতা যার মধ্যে পাখা রয়েছে এবং এটি চলবে।অনেক্ষন জুতো পড়ে থাকলে আমাদের পা গরম হয়ে যায়। এজন্য টেকনোলজি এই পাখাযুক্ত জুতা তৈরি করেছে। একটা সমস্যা আছে এতে আপনি যদি ভুলে কোন ময়লায় পাড়া দিয়ে দেন তখন পাখা চলছে তখন নিচ দিয়ে ময়লাগুলো আপনার পায়ের নিচ দিয়ে ছড়িয়ে যাবে।
আমরা যে পরের গেজেটটি কথা বলব সেটা হচ্ছে একটি স্মার্ট ব্রাশ নিয়ে।একটু ভাবেন ব্রাশও স্মার্ট হয়ে গেছে।এর নাম হচ্ছে স্মার্ট ব্রাশটির নাম হচ্ছে ব্লুটুথ ব্রাশ।এর মাধ্যমে যদি আপনি মাথায় ব্যবহার করেন তাহলে বলে দেবে আপনার চুল কেমন, মাথার ত্বক কেমন?এটা একটা কাজের জিনিস।
এখন রিমোট কন্ট্রোল বালিশও বের হয়ে গেছে।এটি এক ধরনের বালিশ যার মধ্যে রিমোট আছে। এটিকে আপনি টিভির রিমোটের মতো ব্যবহার করতে পারবেন। এটা কিন্তু আবার টিভির রিমোটের মতো নষ্ট হয়।
এখন টয়লেটকেও স্মার্ট করে দেওয়া হয়েছে। আপনি টয়লেট যা আদেশ দিবেন সেটি করবে।এর মানে আপনি যদি টয়লেটে বসার ঢাকনাটি উঠাতে বলেন এটি উঠাবে, টয়লেট পরিষ্কার করতে বললে এটি নিজে নিজেই করবে।আগে টয়লেট পরিষ্কার করার জন্য একটা বাটনে ক্লিক করতে হতো। কিন্তু এই স্মার্ট টয়লেটকে খালি বললেই হয়ে যাবে। এই টয়লেটটির তাপমাত্রা আমাদের রুমের তাপমাত্রার মতোই থাকবে।
এখন লবন দেয়ার জন্য একটি গেজেট বের হয়েছে।এই লবণ দেওয়া মেশিনটার নাম হচ্ছে ব্লুটুথ সল্ট ডিসপেন্সার।এই মেশিনে পরিবেশের জন্য যে আলোর প্রয়োজন সেটি দেখাবে। এই মেশিনে আবার ব্লুটুথ স্পিকারও আছে।এটি ব্যবহার করলে লবণের সঠিক পরিমাণই বের হবে। একটু বেশীও বের হবে না একটু কম বের হবে না।
আমরা রৌদ্রের আলো থেকে চোখকে বাঁচাতে চশমা পড়ে থাকি।এই চশমাকে সূর্যের আলো থেকে বাঁচানোর জন্য গেজেট বের হয়েছে। এর নাম হচ্ছে সান সেডার্স।
পরবর্তীতে যে অপ্রয়োজনের জিনিসটি রয়েছে সেটি হচ্ছে এয়ার পোডস স্টিক। এয়ার পোডস তো বিনা তার ছাড়াই হয়।কিন্তু এই এয়ার পোডস এর মধ্যে আবার স্টিক লাগানো হয়েছে।আবার আপনি চাইলে এই স্টিকের সাহায্যে নুডলস, পাস্তা, সুশি খেতে পারবেন।তো আপনারা এই আর্টিকেলটি পড়ে জেনেছেন যে কোনগুলো প্রয়োজনীয় আর কোনগুলো অপ্রয়োজনীয়।আমাদের জন্য যেসব গেজেট তৈরি করা হচ্ছে সবগুলো কিন্তু প্রয়োজনীয় নয়। এজন্য উচিত যেসব জিনিস মানুষের কাজে লাগবে সেই গেজেটই যেন তৈরি করা হয়। আজকে এই পর্যন্তই।আল্লাহ হাফেজ।

Post a Comment